রাষ্ট্র বিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা কি

    মানুষ সামাজিক ও রাজনৈতিক জীব এবং কোনো না কোনো রাষ্ট্রের অধিবাসী। রাষ্ট্র ছাড়া কারো পইে সুষ্ঠুভাবে জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। কেননা রাষ্ট্র মানবজীবন বিকাশের একটি নিরাপদ ও অনুকূল ত্রে। প্রত্যেক নাগরিকের জন্যই রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করা কিংবা এ সম্পর্কিত জ্ঞানাহরণ করা একান্ত আবশ্যক। কেননা রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমেই একজন নাগরিক রাষ্ট্র সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন করে। তাই প্রত্যেক নাগরিকের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ একান্ত অপরিহার্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    ১. রাজনৈতিক উন্নয়ন সাধন : রাজনৈতিক উন্নয়নের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করা একান্ত আবশ্যক। রাজনৈতিক উন্নয়ন কিভাবে সংঘটিত হবে, কিভাবে সুষ্ঠু রাজনৈতিক চর্চা হবে, কোন দেশের রাজনৈতিক কৃষ্টি কিরূপ এসব বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়ন করা জরুরি।
    ২. রাজনৈতিক চেতনা লাভ : রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে রাজনৈতিক সচেতনতা লাভ করা যায়। জনজীবনের বিভিন্ন েেত্র; যেমন- নির্বাচন, নাগরিক অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রভৃতি েেত্র চেতনা লাভ করতে হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
    ৩. রাজনৈতিক সংগঠন সম্পর্কে জ্ঞানলাভ : রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি, নির্বাচনকমন্ডপলী, জনমত, সরকার প্রভৃতি সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। তাই রাজনৈতিক সংগঠন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভ করতে হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করা আবশ্যক।
    ৪. সরকারের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন : সরকারের বিভিন্ন বিভাগ সম্পর্কে জানতে হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজন রয়েছে। সাধারণত সরকারের তিনটি প্রধান বিভাগ বা অঙ্গ রয়েছে; যথা- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সরকারের এসব বিভাগ সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায়।
    ৫. অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধন : যেকোনো রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নতির পূর্বশর্ত হলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং এর জন্য প্রয়োজন সুশাসন প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্রবিজ্ঞান শাসকবর্গকে সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য পরিচালনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে সাহায্য করে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এ ভূমিকার কারণে দেশ ক্রমশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যায়। তাই রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করা একান্ত প্রয়োজন।
    ৬. অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা : রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠে। তাই বলা হয়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিষয়বস্তুর যথার্থ অনুশীলন ছাড়া নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় জীবন সমৃদ্ধ হয়ে উঠতে পারে না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের যথার্থ অনুশীলনের মাধ্যমে নাগরিকগণ প্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণ করে জাতি গঠনের ভবিষ্যৎ দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।
    ৭. গণতন্ত্রের বিকাশ : বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র হলো রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোৎকৃষ্ট পন্থা। এ গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নাগরিকের গণতান্ত্রিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে ব্যক্তি উৎকৃষ্ট শাসনব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত গণতন্ত্র সম্পর্কে সচেতন হতে পারে। তাই গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করা আবশ্যক।
    ৮. যোগ্য নেতৃত্ব গঠন : রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে যোগ্য নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য, গুণাবলি, শর্ত ইত্যাদি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞানলাভ করা যায়। তাই যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি এবং বাছাইয়ের ল্েয রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যায়ন করা অত্যাবশ্যক।
    ৯. লোকপ্রশাসন সম্পর্কে জ্ঞানার্জন : প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, আমলাতন্ত্র, স্থানীয় শাসন প্রভৃতি সম্পর্কে জানতে হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়ন করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ রাজনীতি হচ্ছে লোক প্রশাসনের মস্তিষ্ক এবং লোখপ্রশাসন হচ্ছে রাজনীতির মুন্ড। উভয়কে নিয়ে গড়ে উঠেছে রাষ্ট্রসত্তা। সুতরাং লোখ প্রশাসন ও রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠ করা প্রয়োজন।
    ১০. রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা : রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যায়নের মাধ্যমে ব্যক্তি তার রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয় এবং এগুলোর সদ্ব্যবহার করে তার ব্যক্তিত্ব বিকাশে সম হয়। কারণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানই রাজনৈতিক অধিকার এবং রাজনৈতিক কর্তব্য সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান দান করে থাকে।
    ১১. সামাজিক সমস্যা জানা ও তার সমাধান : রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে ব্যক্তি একদিকে যেমন সমাজ, রাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে পারে; অন্যদিকে বাস্তব জ্ঞানের সাহায্যে সমাজের নানাবিধ সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রেেিত সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
    ১২. দেশপ্রেম জাগ্রতকরণ : আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের অন্যতম গুণ হলো দেশপ্রেম। দেশপ্রেমিক নাগরিকই দেশের প্রকৃত সম্পদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হয়।
    ১৩. আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা : বর্তমান বিশ্বে মানবকল্যাণ সাধনের নিমিত্তে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে উঠেছে। জাতিসংঘ, রেডক্রস, রোভার স্কাউট, বয়স্কাউট, গার্লগাইড, হিউম্যান রাইটস মুভমেন্ট প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ও কার্যাবলি সম্পর্কে জানা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য। এেেত্র রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সঠিক অনুশীলনের মাধ্যমেই এসব প্রতিষ্ঠান ও এদের কার্যক্রম সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞানলাভ করা যায়।
    ১৪. বিশ্বভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি : বিশ্বের সমগ্র জাতি বা গোষ্ঠীর মধ্যে বিশ্বভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করতে হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞান আহরণ করা একান্ত অপরিহার্য। প্রত্যেক জাতির শিা-সংস্কৃতি, সাহিত্য ও বিজ্ঞান চর্চার সুফল বিশ্বের জ্ঞানভান্ডারে যুক্ত হয় এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যায়নের মাধ্যমে বিশ্ববাসী এগুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন জাতির মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি হয়।
    ১৫. বিশ্ব রাজনীতির গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জানা : বিশ্বে বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে নানা দিক দিয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। তাই একটি দেশের রাজনীতি অপর দেশের রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে ধারণা লাভ, বিশ্ব রাজন ীতির গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ, কূটনীতি, প্রতিরা নীতি, সাম্রাজ্যবাদ প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিতে হলে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা অত্যাবশ্যক।
    ১৬. সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ : সরকারের গৃহীত নীতি ও কার্যক্রম এবং এর সম্ভাব্য ফলাফল, নির্বাচিত প্রতিনিধির চরিত্র প্রভৃতি সবকিছুই আধুনিক রাষ্ট্রের নাগরিকের জানা প্রয়োজন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে এমন সব তথ্য, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান লাভ করা যায় যা একজন নাগরিককে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে।
    ১৭. যুদ্ধ ও ধ্বংসবিরোধী চেতনা লাভ : রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে যুদ্ধ ও ধ্বংসবিরোধী চেতনা লাভ করা যায়। বর্তমান বিশ্বের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অতিমাত্রায় জটিল ও ভয়াবহ। পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত, কূটনৈতিক সমস্যা প্রভৃতি বিষয় রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাহায্যেই জানা সম্ভব। সুতরাং এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে এবং জনমনে যুদ্ধ ও ধ্বংসবিরোধী চেতনা জাগ্রত করতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
    ১৮. তরুণ সমাজকে সচেতন করা : আগামী দিনের নাগরিকদের উপরই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। রাষ্ট্র তথা গোটা বিশ্বের কল্যাণ সাধনের মানসে তরুণ সমাজকে অবশ্যই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞানার্জন করতে হবে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞানার্জনের মধ্য দিয়ে তরুণ সমাজ সচেতন হয় এবং এই সচেতন তরুণ সমাজই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ।
    ১৯. সুনাগরিকতার জ্ঞানার্জন : রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা সুনাগরিকতার উপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। আর রাষ্ট্রবিজ্ঞান মানুষকে সুনাগরিকতা অর্জনের শিা দেয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে নাগরিকগণ বিবেক, বুদ্ধি, আত্মসংযম ইত্যাদিকে শানিত করতে পারে।
    ২০. উদার মানসিকতা গঠন : বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সকল নাগক্ককেই পরস্পর সহনশীল মনোভাব নিয়ে চলতে হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট সকলকে উদার, সহনশীল, সহমর্মী এবং সংস্কারমুক্ত হতে শিা দেয়।
    ২১. সুশাসন প্রতিষ্ঠা : একটি রাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যাবশ্যক। সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে। সুশাসন কি এবং কিভাবে তা প্রতিষ্ঠা করা যায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান আলোচনায় তা পরিষ্কার হয়ে উঠে।
    ২২. রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ : রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যবস্থাসহ এর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিধি, গতি-প্রকৃতি এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার হুমকি প্রভৃতি সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায়। এসব বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের অভাবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা তির সম্মুখীন হতে পারে। তাই এসব বিষয় সম্পর্কে জানার জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

    উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেেিত বলা যায় যে, আধুনিককালে নাগরিকতা বিষয়ক জ্ঞান তথা রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে জানার েেত্র রাষ্ট্রবিজ্ঞান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান প্রোপটে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের পাঠ সকল নাগরিকের জন্য সমভাবে অপরিহার্য। বিশেষ করে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞান পাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই জনগণের কল্য্যাণ সাধনের জন্য রাষ্ট্রের উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করে গণতন্ত্রের সুফল লাভের উদ্দেশ্যে প্রত্যেক নাগরিকেরই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞান আহরণ করা উচিত।

    By Daniel

    hey , I am Daniel. A Great Anime Lover. I love to watch anime and share Anime Apps, Web Series and ETC For Anime Lovers.

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.