যুক্তরাষ্ট্রের ডিএফসি তহবিলের সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ

    শ্রমিকদের নির্বিঘ্নে ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকারসহ কর্মপরিবেশের নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আর্থিক সংস্থার (ডিএফসি) তহবিল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। বুধবার রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (ইউএসএআইডি) উপপ্রশাসক ইসোবেল কোলম্যান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

    এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দেশের ব্যবসায়ী ফোরামের আলোচনায় ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসও বাংলাদেশের শ্রম অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শ্রম অধিকার নিয়ে উদ্বেগ এবং জিএসপি স্থগিত থাকায় ডিএফসির অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ।বিজ্ঞাপন

    উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের প্রকল্প উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি) যাত্রা শুরু করে। মার্কিন কংগ্রেস ডিএফসিকে বিভিন্ন দেশে ছয় হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন দেয়। তবে কোনো দেশে অর্থায়নের ক্ষেত্রে দেশটির পরিবেশ, মানবাধিকার ও শ্রম অধিকারের উচ্চ মান নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, সেটা বিবেচনায় নেওয়া হয়।

    ইউএসএআইডির উপপ্রশাসক প্রথমবারের মতো গত শনিবার বাংলাদেশে আসেন। পাঁচ দিনের এই সফরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন। এর পাশাপাশি তিনি কক্সবাজার ও ভাসানচরে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণে ইউএসএআইডির অর্থায়নের ব্যাপারে জানতে চাইলে ইসোবেল কোলম্যান বলেন, ‘এ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমার কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। ইউএসএআইডি সমীক্ষায় অর্থায়ন করে থাকে। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে আমরা আর অর্থায়ন করছি না। ডিএফসির মতো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অন্য প্রতিষ্ঠান এটা করে থাকে। বাংলাদেশে শ্রম অধিকার নিয়ে উদ্বেগের কারণে ডিএফসির পক্ষে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

    শ্রমিক অধিকারের যেসব বিষয়ে উদ্বেগ আছে, সেগুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ডিএফসির পক্ষে এখানে কাজ করা সম্ভব নয়। আমরা আশা করি, সরকার এগুলোর সুরাহা করবে, আমাদের কাজ করার সুযোগ করে দেবে। আমরা এখানে কাজ করার জন্য তৈরি আছি।’

    শ্রম অধিকারের কোন কোন জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আছে জানতে চাইলে বাংলাদেশে ইউএসএআইডির মিশনপ্রধান ক্যাথরিন ডেভিডস স্টিভেন্স বলেন, ‘ট্রেড ইউনিয়নের নির্বিঘ্নে কাজ করাসহ সংগঠিত হওয়ার অধিকার এবং কর্মপরিবেশের নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে। তৈরি পোশাক কারখানার পরিস্থিতির উন্নতি হলেও অন্যান্য ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলোতে ঘাটতি রয়ে গেছে।’

    বাংলাদেশে শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে সামনের চ্যালেঞ্জের বিষয়টি ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যেও উঠে এসেছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ ব্যবসায়ী ফোরামের আলোচনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেন, শ্রম অধিকার এবং কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০১৩ সালে বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জেনারাইলজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স ট্রেড বেনিফিট বা জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়ে দিয়েছে যে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের জন্য বাণিজ্য–সুবিধা অব্যাহত থাকবে কি না, সেটা নির্ভর করবে শ্রম অধিকারের যে বিষয়গুলোতে উদ্বেগ আছে, সেগুলোর ওপর।

    যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ ব্যবসায়ী ফোরামের আলোচনায় পিটার হাস বলেন, ‘এ বিষয়গুলোতে উদ্বেগ থাকার দরুন যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ। ডিএফসি মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের প্রকল্প উন্নয়নে কাজ করে। বাংলাদেশের প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের জন্য আদর্শ উৎস হতে পারে ডিএফসি। দুর্ভাগ্যের বিষয়টি হচ্ছে জিএসপি ফিরে পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত ডিএফসির অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবে না বাংলাদেশ। আমাদের আশা থাকবে, বাংলাদেশ শিগগিরই শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মস্থলে নিরাপত্তার বিষয়ে অগ্রগতি সাধন করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ অচিরেই ডিএফসির বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য যোগ্যতা অর্জন করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারবে।’

    সুত্রঃ প্রথম আলো

    By Daniel

    hey , I am Daniel. A Great Anime Lover. I love to watch anime and share Anime Apps, Web Series and ETC For Anime Lovers.

    Leave a Reply

    Your email address will not be published.